Wali Muhammad Scott এর স্মৃতি স্মরণে সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম!

Markaz Sri Petaling থেকে North America!

Editing by Sheikh Zaman

আমেরিকার জনৈক এক দায়ীর ভাষ্য মতে, Wali Muhammad Scott, “He was the best looking Santa Clause I’ve ever seen, Christmas or otherwise.” যিনি গত ২০০৪ সালের September দুনিয়া থেকে বিদায় নেন। Wali Muhammad সম্পর্কে শুরা হযরত ওয়াসিফুল ইসলামের স্মৃতিচারণ তুলে ধরিলামঃ

English থেকে বাংলা অনুবাদঃ আমেরিকার সাথীদের উদ্দেশ্য লেখা।

ভারাক্রান্ত মন নিয়ে লিখছি। খুব বেশি দিন হয়নি, আমাদের প্রিয় ভাই বন্ধু ওয়ালী মুহাম্মদের (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন) চলে যাওয়ার অপ্রীতিকর সংবাদ আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এটা সত্যিই আমার জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল। ১৯৭৩ সাল থেকে আমরা একে অপরকে চিনি।

বাংলাদেশ থেকে একটি নগদ জামাত জন আমেরিকানসহ নিজামউদ্দিনে এসেছিলাম। আমি নিজে প্রথমবার নিজামউদ্দিনে এসেছিলাম। জামাতে ছিলেন ভাই ওয়ালী মুহাম্মদ, ভাই হাশিম (বর্তমানে করাচিতে বসবাসরত), ডেট্রয়েটের ভাই মুহাম্মদ খালিদ এবং নিউইয়র্কের ভাই ইউসুফ।

আমার আজো মনে পড়ে ওয়ালীর কন্ঠের উচ্চারিত উর্দু। ওয়ালী তার পাশে কেউ বসলেই বলতেন, “তাবলীগ সবসে বড়া কাম হ্যায়“! – তাবলীগ সমস্ত কাজের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়ে তার উর্দু শুনতাম। পুশতু পোশাক পরা এক বেচারা, লাল রক্ত বর্নের তরুণ সাদা আমেরিকান কিনা উর্দুতে তাবলীগের কাজের প্রশংসা করছিল। আমি মাওলানা ইলিয়াস সাহেব (রহঃ) এর স্বপ্ন বাস্তবায়নের সাক্ষী ছিলাম।

হাজী আব্দুল মুক্বীত সাহেব রহ. (আল্লাহ তাঁর কবরকে নূরে পূর্ণ করুন) এই জামাতের অনুবাদক হিসেবে আমাকে তাশকিল করলেন, সংগে ছিল মৌলভী জহুর মেওয়াতি। আমি তাদের সাথে ভারতে এবং বাংলাদেশে প্রায় ৪০ দিন সময় কাটিয়েছিলাম। আমদের মধ্য খুব বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়েছিল। তিনি আমাকে হাদিয়া হিসাবে তার একটি থোবও দিয়েছিলেন।

তারপর যখন আমি ১৯৭৬ সালে মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেব (রহ.) এর সাথে ইউএসএ/কানাডায় খুরুজের জন্য যাই, তখন ওয়ালী আমাদের ফিলিতে তার বাড়িতে রাতের খাবারের জন্য আমন্ত্রণ জানায়। তিনি আমাদের সম্পর্কে ভগ্নিপতি হয়ে গিয়েছিলেন, কারণ তিনি একজন বাংলাদেশী মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন, যে মেয়েটি পূর্ব পাকিস্তানের একজন গভর্নরের ভাতিজি ছিল। তিনি (ওয়ালী) আমাকে তার কোয়েটা (প্রাইম) হালাল মাংসের দোকান দেখাতে নিয়ে গেলেন যা ছিল তার স্বপ্নের দোকান।

১৯৮৯ সালের কিছু সময় যখন আমি আমার পরিবার সহ নিউ জার্সির ট্রেন্টন বসবাস করতাম, ওয়ালী তার পরিবার সহ আমাদের সাথে দেখা করতে আসতেন। কখনও কখনও আমরা তার বাসায় যেতাম এবং তিনি রাজাদের জন্য উপযুক্ত একটি বড়রকম দস্তরখান বিছিয়ে বসে পড়তেন।

অনেক স্মৃতি আছে, ১৯৭৯ সালে আমরা মাস্তুরাত জামাত নিয়ে আমেরিকা গিয়েছিলাম এবং আমাদের মহিলারা তাঁর বাড়িতে থেকেছিলেন। আমরা রায়উইন্ড, টঙ্গী এবং নিজামুদ্দিনের ইজতেমা এবং জোড়গুলিতে অনেকবার দেখা করেছি। ২০০০ সালে ইউএসএ কানাডায় হযরতজীর সফরের সময়, ওয়ালী এবং ভাই লুকমান প্রতিনিয়ত আমাদের সাথে ছিলেন। আমাদের শেষ দেখা হয়েছিল যখন আমরা মাওলানা আহমদ লাট এবং ইয়ামিন সাহেবের সাথে ২০০২ সালে পুরো উওর আমেরিকা জুড়ে ভ্রমণ করেছি। সে তখনও দেখতে ভালোই ছিল, তার সুগারও নিয়ন্ত্রণে ছিল।

ওয়ালী ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ। দয়ালু, উদার, সহায়ক, একটি মহৎ আত্মা, একজন বিখ্যাত দায়ী। তিনি তাঁর লক্ষ্যে একক ছিলেন এবং তাবলীগের জন্য তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তার ক্ষতি আমেরিকার জন্য নয় বরং সমগ্র বিশ্বের ক্ষতি। আমি এমন একজন ব্যক্তির প্রতিস্থাপন দেখি না। এখন তার কাজ চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদের।

আমি তার তিনটি সুন্দর ছেলেকে বিশেষভাবে মনে করতে চাই। আমি তাদের বছরের পর বছর ধরে বড় হতে দেখেছি। তাদেরকে একজন দক্ষ পিতার যোগ্য সন্তান হতে হবে। ওয়ালী তার ছেলেদের ভালোবাসতেন এবং তাদের জন্য দোয়া করতেন যেন তারা দায়ী হতে পারে। আমরাও দোয়া করি আল্লাহ যেন তাদের এই উচ্চ মহৎ কাজের জন্য কবুল করেন। যে কাজের জন্য ওয়ালী তার সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছিলেন।

আমি বিশ্বাস করতে পারছি না ওয়ালি চলে গেছে। যদিও আমরা সমুদ্রের এপার ওপার থাকতাম। একমাএ লুকমান ব্যতীত আমি তার খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম, তিনি আমাকে তার ব্যক্তিগত জিনিস সম্পর্কে বলতেন এবং যখনই আমরা দেখা করতাম আমরা একা বসে গল্প করার এবং গল্প করার জন্য সময় বের করতাম।

আমি শীঘ্রই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসছি, ওয়ালীর অনুপস্থিতি সত্যিই সহ্য করা অনেক কঠিন। দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম, আল ফেরদৌস দান করেন।

প্রিয় বন্ধু অনেক দূরে। তোমার গভীর রাতের তাহাজুদ তোমার কবরে নূর। হয়তো জান্নাত থেকে আনা বিছানায় তুমি ঘুমিয়ে আছ। তোমার হিসাব সহজ হোক এবং আল্লাহ আমাদের আবার একত্রিত করুন ইডেনের ছায়ায়।

ওয়াসিফুল ইসলাম ঢাকা বাংলাদেশ।

Published by tablighnews24.com

Editor & Publisher of Tabligh News 24

Leave a comment