
আলহামদুলিল্লাহ। বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ৩ চিল্লার পুরোনো সাথী ও ওলামা হযরতদের ঐতিহাসিক ৫ দিনের জোড়ের আজ ৩য় দিন। এবারের ৫ দিনের জোড়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ইজতেমাইয়াত। যেটা ছাড়া আল্লাহর নুসরত বা সাহায্য পাওয়া সম্ভব নয়। হযরতজী মাওলানা ইউসুফ রহঃ বলতেন, “যদি আপনার ইজতেমাইয়াত না থাকে তাহলে আপনার ইবাদত আসমান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে আল্লাহর সাহায্য নামিয়ে আনার জন্য যথেষ্ট হবে না“। ঐতিহাসিক এই জোড়ে মহান আল্লাহ সাথীদের ইজতেমাইয়াতকে কবুল ফরমান।
৫ টি বিশেষ কারনে এই জোড় স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জোড় হিসাবে ইতিহাস হয়ে থাকবেঃ
(১) সাথীদের মধ্যে ইজতেমাইয়াত ও কোরবানীর এক উঁচু অবস্হান লক্ষ্য করা গেছে।
(২) টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে এই জোড় করার বিষয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার স্বাক্ষরিত অনুমতি পত্র সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে স্হগিত। যেটা গত ২০১৮ থেকে সরকারের একচোখা নীতির পুনরাবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ এবং একই সংগে নন–তাবলীগ পলিটিকাল ধর্ম ব্যবসায়ী হেফাজত ও ধোঁকাবাজ আলমী শুরাকে প্রাধান্য দেওয়ার পুনরাবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ।
(৩) আর বল, ‘হক এসেছে এবং বাতিল বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় বাতিল বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল’। – এই আয়াতটি হিজরতের পর মক্কা বিজয়ের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চারণ করেছিলেন। এই জোড় হকের বিজয় প্রমান করে। – সুরা বনী ইসরাইলঃ১৭
(৪) দেশের ৬৪ জেলা, ১২ টি সিটি কর্পোরেশন, ৬৫২ টি থানা এলাকাতে ৩ লক্ষের উপরে ৩ চিল্লার সাথী আছেন । যেমন দেশের ছোট্ট একটি থানা মাগুরার মোহাম্মদপুর থানা। যেখানে ৩০০ শতের উপরে ৩ চিল্লার সাথী আছে। ঢাকা জেলা বাদে শুধু মাএ ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ২৮৫ টি হালকাতে ২৪,০০০ হাজারের উপরে ৩ চিল্লার সাথী আছে। এই হিসাবে সারাদেশে ৩ লক্ষের উপরে ৩ চিল্লার সাথী আছেন। সঠিক সংখ্যা ৪ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে। এই জোড়ে ২ লক্ষের উপর সাথী ময়দানে অবস্হান করছেন। অর্ধেক সাথী এই জোড়ে শরিক হতে পারেন নাই। তারপরও এই জোড় অতীতের সকল রেকর্ড ভংগ করেছে।
(৫) এই জোড় এ যাবত কালের সবচেয়ে বৃহত জোড়। যেখানে সর্বাধিক সংখ্যক ওলামার সমাগম ঘটেছে। বিশ্ব মারকাজ Nizamuddin এর ১৩ জন সর্বোচ্চ ওলামা এবং বিশ্ব আমীরের ৩ শাহাজাাদা সহ ১৬ টি দেশের ১০০০ এর উপরে বিদেশী মেহমান শরীক হয়েছেন, যেটা ৫ দিনের জোড়ের সর্বোচ্চ রেকর্ড। ১০ হাজারের উপরে দেশের ১ চিল্লা, ৩ চিল্লা ও সালের ওলামা হযরতগন শরীক হয়েছেন।



