আবারো বিশ্ব আমীর বিহীন বিশ্ব ইজতেমা

আবারো বিশ্ব আমীর বিহীন বিশ্ব ইজতেমা । ২০১৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রতিবারই সরকারের পক্ষপাতমূলক আচারন ও বৈষম্যের শিকার মূলধারার তাবলীগ। ক্ষোভে ফুঁসছে দেশ। যে কোন সময় ক্ষোভের বিস্ফোরনে রাস্তায় নেমে আসবে সাধারন মুসলমান। ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে গেছে বিশ্বময় । বিশ্বের ৫৫ টি দেশ থেকে সরকারকে চিঠি। সাধারন মুসলমানদের অভিযোগের তীর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে! বিশ্বের সর্ব বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ অথচ ধর্ম মন্ত্রীর ভূমিকা ঠুঁটো জগন্নাথ !
Tabligh News 24 রিপোর্টার এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রীর সাথে টেলিফোনে কথা বললে তিনি ইজতেমাকে কেন্দ্র করে গৃহীত সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন অথচ বিশ্ব তাবলীগ আমীর মাওলানা সাদ বাংলাদেশ সফরে এলে, আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা আছে বলে জানান। এই একই অজুহাতে গত ২০১৮ সাল থেকে বিশ্ব তাবলীগ আমীরকে বাংলাদেশে আসতে সরকার অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। অথচ দেশের সাধারন মুসলমানগন মনে করেন, সরকারের হেফাজত প্রীতি এবং সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পীর বাবার অভিশাপে আজ ৬ বছর যাবৎ অভিশপ্ত মূলধারার আসল তাবলীগওয়ালারা।
গত ৬ বছরে পীরবাবা ও হেফাজত অভিশাপের নমুনাঃ
(১) ২০১৮ থেকে প্রতিবারই ২ য় ধাপের বিশ্ব ইজতেমা ভাগ্যে ঝুলেছে আসল তাবলীগওয়ালাদের !
(২) বৈষম্যের যাঁতাকলে আসল তাবলীগওয়ালাদের জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে ২ সপ্তাহ করে কাকরাইল মারকাজ, অন্যদিকে পীরবাবার সন্তানদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪ সপ্তাহ !
(৩) কতিথ সরকারি পরিপত্রের জোরালো আওয়াজ মন্ত্রী বাহাদুরের মুখে থাকলেও, অভিশাপের কালো ছায়ায় যেটা কখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে জঙ্গি হেফাজত হরহামেশাই মসজিদ থেকে আসল তাবলীগের জামাত বের করে দিচ্ছে। নকল তাবলীগ নামধারীর স্বাধীনতার শত্রু পাকি আলমী শুরা ও জঙ্গি হেফাজত মিলে ৬৪ জেলায় সামান্য ১ টি জেলা ইজতেমা আয়োজনের যোগ্যতা দেখাতে পারিনি, তাই আসল তাবলীগ ওয়ালাদের ৬৪ টি জেলা ইজতেমায় দেওয়া হচ্ছে বাঁধা। এই অভিশাপের মাঝেও ৬৪ জেলায় সফল ভাবে আসল তাবলীগওয়ালারা সম্পন্ন করে চলেছে তাদের জেলাওয়ারী ইজতেমা।
বিশ্ব তাবলীগ আমীরকে পাওয়ার জন্য যেখানে সারা পৃথিবী উদ্গ্রীব সেখানে বাংলাদেশে ভিন্ন অজুহাতঃ
শেষ ৪ মাসে বিশ্ব আমীর ৪টি দেশ সফর করেন। যিনি প্রতিনিয়ত সারা বিশ্ব সফর করে চলেছেন। গত ২০২৩ সালে বিশ্ব আমীরের ইতায়াতে বিশ্ব জুড়ে ৩৭২ টি বড় বড় ইজতেমা সম্পন্ন হয়েছে। অথচ এই বিশ্ব ইজতেমার সুতিকাগার বিশ্ব তাবলীগের সদরদপ্তর Banglewali Masjid Nizamuddin Delhi – এর বিশ্ব আমীরকে গত ২০১৮ থেকে বাংলাদেশে অসম্মান করা হচ্ছে। সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ। আমরা বিশ্বাস করি দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হয়তো এ সকল বিষয়ে সঠিক ভাবে অবগত নন।
(১) গত আগষ্ট ৮–১৩, ২০২৩ তারিখ Markaz Masjid Sri petaling, Malaysia 🇲🇾–তে বিশ্ব আমীরকে দেখা ও তার কথা শ্রবনের জন্য পুরো পৃথিবীর ৫৬ টি দেশ ছুটে আসে। মালায়েশির উপপ্রধানমন্ত্রী তাকে reception করেন। আর সে দেশের প্রধানমন্ত্রী Markaz Sri petaling যেয়ে বিশ্ব আমীরের সহিত দেখা করে আসেন।
(২) গত অক্টোবর ২৬–২৯, ২০২৩ তারিখ বিশ্ব আমীরের Morocco 🇲🇦 সফরে বিশ্বের ১০১ টি দেশ ছুটে যায়।
(৩) গত অক্টোবর ৩০, ২০২৩ তারিখে বিশ্ব আমীরের তুরস্ক সফর করেন।
(৪) গত ডিসেম্বর ২৯, ২০২৩ তারিখ থেকে জানুয়ারী ২৩, ২০২৪ বিশ্ব আমীর সফর করেন Saudi Arabia 🇸🇦.
কলংকিত হেফাজত ও তাদের দোষরঃ
“হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ” নামের গোষ্ঠী ধর্মের অপব্যাখ্যা আর উগ্রবাদ উসকে দিয়ে দিন দিন দানবে পরিনত হচ্ছে। যাদের নেতৃত্বে গত ২০১৮ সালে বিশ্ব তাবলীগ আমীরের মারাত্মক সম্মানহানি করা হয়। এদের এখনি রুখতে হবে। ধর্মের দোহাই দিয়ে দিন দিন এরা রূপ নিচ্ছে, ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দানবে।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের কাহিনী শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমার মতে হেফাজতকে পুনর্জন্ম দিয়েছে বর্তমান সরকারের নমনীয়তা। সময় হয়েছে ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের এই দানব কে রুখে দেয়ার।
আর এই সুযোগে দেশের স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানী অপশক্তি “আলমী শুরা” নামক একটি চক্র, সরকারের হেফাজত দূর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে, দেশে হেফাজতের পুনর্জন্মে সহায়তা করছে। অবৈধ পাকিস্তানী কালো টাকার শক্তিতে দেশের নিরীহ ধর্মপ্রান মানুষদের হত্যা, জখম, মসজিদ দখল সহ ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশের বিশ্ব ইজতেমাকে কলংকিত করছে। কৌশলে দখলে রেখেছে আসল তাবলীগের ইজতেমা।
এভাবে চলতে থাকলে নিরীহ মুসলমান অচিরেই রাস্তায় বেরিয়ে আসবে। সরকার ভূলে গেছে নিরীহ তাবলীগওলারা হেফাজতের চেয়েও সংখ্যায় অনেক বেশি এবং বড় একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। তারা হেফাজতের মতো সরকারকে জিম্মি করে অধিকার আদায় করতে জানে না। তারা “আলমী শুরার” মতো কূটকৌশল জানে না। শুধুমাত্র আল্লাহ থেকে হওয়া বিশ্বাসী এই নিরীহ মুসলমানদের সরকার আর কত ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে রাখবে?
আমরা সরকারের সুমতি আশা করি।
We hope the BD government will reconsider its decision.